পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে সড়কে। তবে প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদযাত্রাকে ঘিরে বাড়তি ভাড়া আদায় ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অভিযোগে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ১৭০ টাকার নির্ধারিত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে এক্সপ্রেসওয়ের পাঁচ্চর এলাকায় দেখা যায়, দক্ষিণাঞ্চলগামী লেনে দূরপাল্লার বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের ব্যাপক চাপ রয়েছে। প্রায় সব পরিবহনেই উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এমনকি লোকাল পরিবহনেও স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, ঢাকা থেকে শিবচরের পাঁচ্চর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত স্বাভাবিক ভাড়া ১৭০ টাকা হলেও ঈদ উপলক্ষে দাঁড়িয়ে যাত্রীর ক্ষেত্রে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং আসনে বসে যাত্রার জন্য ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
ঢাকা থেকে আসা যাত্রী বেলায়েত হোসেন বলেন, পরিবারের তিন সদস্য নিয়ে গুলিস্তান থেকে বাসে উঠেছি। আগে থেকেই জানানো হয়, দাঁড়িয়ে গেলে ৩০০ টাকা এবং বসে গেলে ৫০০ টাকা ভাড়া দিতে হবে। পরে অনেক অনুরোধের পর ৪০০ টাকা দিয়ে পাঁচ্চরে আসতে হয়েছে।
আরেক যাত্রী সুরুজ মিয়া বলেন, প্রতি বছর ঈদের সময় অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়েই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের আগে যাত্রীচাপ বেশি থাকলেও ফেরার পথে অনেক সময় গাড়ি খালি যেতে হয়। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
এদিকে পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার রাত ১২ টা থেকে দুপুর ৩ টা পর্যন্ত প্রায় ২৮ হাজার ৭০০ যানবাহন সেতু পারাপার হয়েছে। এ সময় টোল আদায় হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৮৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো এবং দুর্ঘটনা এড়াতে হাইওয়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।