দরজায় কড়া নাড়ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। আগামী ১২ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসর ফুটবল বিশ্বকাপ। ৪৮টি দেশের অংশগ্রহণে এবারের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে নতুন আঙ্গিকে। ইতোমধ্যে বিশ্বকাপকে ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবল উন্মাদনা। এর ব্যতিক্রম নয় মাদারীপুরের শিবচর উপজেলাও।
বিশ্বকাপ শুরুর কয়েকদিন আগেই শিবচরের অলিগলি, বাজার, চায়ের দোকান, খেলার মাঠ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ফুটবল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা। কে জিতবে বিশ্বকাপ, কোন দল সবচেয়ে শক্তিশালী, কারা হতে পারে এবারের চমক এসব নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক ও বিশ্লেষণ। তবে সবচেয়ে বেশি সরব হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন স্পোর্টস ও জার্সির দোকানগুলো।
শিবচর বাজার,চান্দেরচর,শেখপুর পাঁচ্চরসহ বিভিন্ন এলাকার জার্সির দোকানগুলোতে এখন ফুটবলপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের আনাগোনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের মধ্যে প্রিয় দলের জার্সি কেনার আগ্রহ সবচেয়ে বেশি।
দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা, ব্রাজিলের হলুদ-সবুজ, পর্তুগালের লাল-সবুজ, ফ্রান্সের নীল, স্পেনের লাল এবং জার্মানির সাদা-কালো জার্সির চাহিদা বেশি। অনেকেই নিজেদের নাম ও পছন্দের খেলোয়াড়ের নাম লেখা বিশেষ জার্সির অর্ডারও দিচ্ছেন।
স্থানীয় এক জার্সি বিক্রেতা জানান, “বিশ্বকাপ এলেই জার্সির ব্যবসা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ১০০ পিস খুচরা জার্সি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ক্লাব, বন্ধু মহল ও সমর্থক গোষ্ঠীর জন্য পাইকারিভাবে তিন থেকে পাঁচ সেট জার্সি বিক্রি হচ্ছে প্রতিদিন। বিশ্বকাপ শুরু হলে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছি।”
জার্সি কিনতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী সাফিন আহমেদ বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিলের সমর্থক। বিশ্বকাপ এলে নতুন জার্সি না কিনলে যেন উৎসবটাই পূর্ণতা পায় না। বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখার জন্য এবারও নতুন জার্সি কিনেছি।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সমর্থক হাছিবুর রহমান বলেন, “বিশ্বকাপ মানেই অন্যরকম আনন্দ। আমাদের এলাকায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা থাকে। তাই আগে থেকেই জার্সি কিনে প্রস্তুতি নিচ্ছি।
শুধু তরুণরাই নয়, শিশু থেকে শুরু করে মধ্যবয়সী এমনকি বয়স্ক ফুটবলপ্রেমীরাও ভিড় করছেন দোকানগুলোতে। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের জন্য প্রিয় দলের জার্সি কিনছেন। কেউ আবার পরিবারের সদস্যদের জন্য একই দলের জার্সি সংগ্রহ করছেন।
স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীরা জানান, বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকায় বড় পর্দায় খেলা দেখার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি ক্লাব ও সামাজিক সংগঠন খেলা সম্প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে বিশ্বকাপকে ঘিরে পুরো উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
বরহামগঞ্জ ইউনাইটেড ক্লাব শিবচরের সাবেক ফুটবল কোচ জালাল মোল্লা বলেন, বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, এটি বিশ্বব্যাপী কোটি মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার একটি মিলনমেলা। সেই আবেগের ছোঁয়াই বরাবরের মতো লেগেছে শিবচরের সাধারণ মানুষের মধ্যেও।
বিশ্বকাপের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে শিবচরের ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস। জার্সির দোকানগুলো এখন যেন ছোট্ট এক বিশ্বকাপ মঞ্চে পরিণত হয়েছে। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, পর্তুগাল, ফ্রান্স কিংবা জার্মানির সমর্থকদের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠছে বাজারগুলো। ফুটবলের এই মহাযজ্ঞকে ঘিরে শিবচরের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বিশ্বকাপের প্রথম বাঁশি বাজার অপেক্ষায় দিন গুনছেন হাজারো ফুটবলভক্ত।