গাজীপুরের গাছা থানা যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা রুবেল সরকারের বিরুদ্ধে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা
গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা নাসির উদ্দিন সরকার রুবেলের বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ট্রাক ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় রুবেল সরকারসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলাটি দায়ের করেন ব্যবসায়ী মো. মাসুদ রানা। গত ১৭ জুন দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে গাছা থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি রুজু করা হয়। মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩৮৫ ও ৪২৭ ধারায় রেকর্ড করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুন রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে গাছা থানার কুনিয়া বড়বাড়ী এলাকার বেস্টশার্ট গার্মেন্টস থেকে জুট বোঝাই একটি ট্রাক টঙ্গী মিলগেটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ট্রাকটি গার্মেন্টসের প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছালে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ট্রাকটির গতিরোধ করে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা রুবেল সরকারের নেতৃত্বে অভিযুক্তরা ট্রাকে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে। পরে ব্যবসায়ীর কাছে নগদ দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদার টাকা পরিশোধ না করলে জুটবোঝাই ট্রাক পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় ভুক্তভোগীর ডাক-চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ও টহলরত পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা শেষে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
তবে মামলার প্রধান আসামি ও গাছা থানা যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা নাসির উদ্দিন সরকার রুবেল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “যিনি বাদী হয়ে আমার বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলা করেছেন, সেই মাসুদ রানা নামের ব্যক্তির সঙ্গে আমার জীবনে কখনো কথা হয়েছে কি না সেটিও আমি জানি না। আমি তাকে চিনিও না। এমনকি মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশকেও আমি চিনি না।”
তিনি আরও দাবি করেন, “রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা। আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করব, তারা যেন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।”
রুবেল সরকার বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যারা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে আমি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অনুরোধ জানাই, তারা যেন নিরপেক্ষভাবে সত্য ঘটনা অনুসন্ধান করে জনগণের সামনে তুলে ধরেন।”
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন হামিদুর রহমান, আশরাফুল হোসেন, আশরাফুল ইসলাম মোল্লা, জিয়া উদ্দিন জিয়া, মিজানুর রহমান মিজান, মো. বাবু, মো. ইব্রাহিম ও মো. আহাদ মিয়া।
গাছা থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, মামলার এজাহারে উল্লিখিত অভিযোগগুলো অভিযোগকারীর বক্তব্য এবং রুবেল সরকারের বক্তব্য তার নিজস্ব দাবি। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে।