কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জব্দ করা প্রায় ১৬০ কেজি গাঁজা মাদক কারবারিদের কাছে বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএ বারীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে কুমিল্লা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
থানার একাধিক সূত্র জানায়, গত শনিবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি কাভার্ডভ্যানে তল্লাশি চালান এসআই মো. ইমাম উদ্দিন ও এএসআই হাফিজুর রহমান। এ সময় তিনটি বস্তায় প্রায় ১৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। তবে এসব গাঁজা জব্দ না করে সেদিন রাতেই কয়েকজন মাদক কারবারির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে একটি কালো টিআরএক্স মাইক্রোবাসে করে গাঁজার বস্তাগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে কাভার্ডভ্যানটি ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
সূত্রগুলোর দাবি, উদ্ধার হওয়া গাঁজা প্রতি কেজি প্রায় ৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি জানান, ওই রাতে দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিসের সামনে একটি কাভার্ডভ্যান আটক করে চালকের কাছ থেকে গাড়ির চাবি নিয়ে নেন এসআই ইমাম উদ্দিন ও এএসআই হাফিজুর রহমান। পরে তারা বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় সেখানে কয়েকজন সন্দেহভাজন মাদক কারবারির আনাগোনাও দেখা যায় বলে দাবি করেন তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই মো. ইমাম উদ্দিন। তিনি বলেন, “আমি ওই রাতে নাইট ডিউটিতে ছিলাম। গাঁজা উদ্ধার ও বিক্রির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
এ বিষয়ে এএসআই হাফিজুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে ইমাম স্যার জানেন। আমি কিছু বলতে পারব না।”
অভিযোগ প্রসঙ্গে এর আগে দাউদকান্দি থানার ওসি এমএ বারী বলেন, “বিষয়টি নিয়ে সংবাদ হলে আমার কিছু বলার নেই।”
দাউদকান্দি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওসি এমএ বারীকে দাউদকান্দি থানা থেকে প্রত্যাহার করে কুমিল্লা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে তার প্রত্যাহারের কারণ সম্পর্কে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।