গাজীপুর মহানগরীতে সরকারি কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারণ করে জালিয়াতি, ভুয়া দলিল তৈরি এবং চোরাইমাল কেনাবেচায় জড়িত মো. রুবেল খাঁ (২৮) নামের এক দুর্ধর্ষ প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) মহানগর গোয়েন্দা (দক্ষিণ) বিভাগ। এ সময় তার হেফাজত থেকে ৩টি চোরাই মোটরসাইকেল, ৫টি ল্যাপটপ, পুলিশের ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং বিআরটিএর জাল সিলমোহরসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার করা হয়।
আজ মঙ্গলবার (১ জুলাই, ২০২৬ খ্রি.) জিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মহানগর গোয়েন্দা-দক্ষিণ বিভাগ) স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত মো. রুবেল খাঁ ঝিনাইদহ জেলা সদরের টিকারী (টিকারী বাজার ফোরসান্দি) এলাকার মো. আবু বকর খাঁর ছেলে। সে বর্তমানে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন দক্ষিণ খাইলকুর পেয়ারাবাগান রোডের আবুল কালাম আজাদের বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে এই অপরাধ চক্র পরিচালনা করে আসছিল।
প্রেস রিলিজ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন ২০২৬ খ্রি. মঙ্গলবার জিএমপির গোয়েন্দা (দক্ষিণ) বিভাগের একটি চৌকস টিম এসআই (নিঃ) মো. হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে মহানগর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে গোপন সংবাদ পায়। সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ দক্ষিণ খাইলকুর পেয়ারাবাগান রোডের ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রুবেল খাঁকে আটক করে। পরে তার কক্ষ তল্লাশি করে জালিয়াতি ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মালামাল উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকিত মালামাল ৩টি চোরাই মোটরসাইকেল (যার মধ্যে ১টির আনুমানিক মূল্য ১,৯১,০০০ টাকা), ১টি মাস্টার কি (মোটরসাইকেল চুরির বিশেষ চাবি), ৫টি ল্যাপটপ (আনুমানিক মূল্য ১,০০,০০০ টাকা) এবং ৩টি প্রিন্টার। ১টি পুলিশ ভেস্ট, ১ জোড়া পুলিশের বুটজুতা, ১টি পুলিশের বেল্ট, ২টি পুলিশের ফিল্ডক্যাপ, ১টি পুলিশের পিস্তল কভার, ১টি পুলিশের শোল্ডার লাইট, ১টি ওয়াকিটকি সেট, ১টি হ্যান্ডকাফ (কভারসহ), ১টি হেলমেট, এবং বাংলাদেশ পুলিশের 'স্পেশাল ব্রাঞ্চের' ছবিযুক্ত ২টি ভুয়া আইডি কার্ড। বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের ৫টি জাল সিলমোহর (যার একটিতে 'মো: মফিজুর রহমান, উচ্চমান সহকারী/কম্পিউটার অপারেটর, বিআরটিএ ঝিনাইদহ সার্কেল' লেখা), বিআরটিএর ১১টি জাল ই-রেজিস্ট্রেশন কার্ড, ৮টি ভুয়া মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করা পরিশোধের জাল সনদপত্র, ১টি জাল একনলেজমেন্ট স্লিপ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স। ডিএমপি ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের ২৭টি স্টিকার, এসআই/রুবেল খাঁ লেখা ১২টি ভিজিটিং কার্ড, 'রিয়ালিটিভি অনলাইন নিউজ মিডিয়া'র ১টি আইডি কার্ড, ১টি প্রেস মাইক্রোফোন, ৯টি গ্রামীণ সিম এবং ২টি মেমোরি কার্ড।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি স্বীকার করেছে যে সে মূলত কোনো সরকারি কর্মচারী নয়। সে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পুলিশ ও বিআরটিএর সরঞ্জাম ও সিলমোহর ব্যবহার করে মানুষের সাথে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণা করে আসছিল। আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পরবর্তীতে টাঙ্গাইল সদর ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ২টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।