পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় তাবিজ-তদবিরের কথা বলে এক নারীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে উপজেলার উত্তর চৈতা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৬)। তিনি মাধবখালী ইউনিয়নের উত্তর চৈতা গ্রামের বাসিন্দা এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি। এছাড়া কাঁঠালতলী বাজারে তার একটি ফার্মেসি রয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি স্থানীয়ভাবে তাবিজ-তদবিরের কাজও করতেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ভুক্তভোগী নারী নিয়মিত ওই ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতেন। সেই সূত্রে অভিযুক্ত তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন এবং পরবর্তীতে তাদের মধ্যে যোগাযোগ গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী তার এক আত্মীয়ের পড়াশোনার বিষয়ে তদবিরের অনুরোধ করলে অভিযুক্ত তাকে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় দেখা করতে বলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে ফার্মেসিতে গিয়ে অভিযুক্তকে না পেয়ে ফোন করলে তিনি বাড়িতে আসতে বলেন। পরে রাতের দিকে ভুক্তভোগী তার বাড়িতে গেলে সেখানে অন্য কাউকে দেখতে পাননি। এ সময় তিনি ফিরে যেতে চাইলে অভিযুক্ত তাকে জোরপূর্বক আটকে রেখে হিজাব-বোরকা খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ওই রাতেই ভুক্তভোগী মির্জাগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরদিনই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
দ্রষ্টব্য: অভিযোগগুলো মামলার এজাহারের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে। বিষয়টির বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান এবং আদালতের রায়ের আগে অভিযুক্ত আইনগতভাবে দোষী প্রমাণিত নন।