আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে শুক্রবার যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক আঞ্চলিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
চুক্তিটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।
সূত্রগুলোর মতে, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান সুন্নি মুসলিম শক্তিগুলোর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করবে। তবে এতে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশের নির্দিষ্ট দায়বদ্ধতা বা প্রতিশ্রুতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তুরস্কের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, শুক্রবারই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে।
তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্র। অন্যদিকে সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানিকারক দেশ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রভাবশালী শক্তি। পাকিস্তান একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে এই ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে সৌদি আরবের জেদ্দায় বৈঠকে অংশ নেবেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরও উপস্থিত থাকবেন।
জানা গেছে, প্রায় এক বছর ধরে এ বিষয়ে আলোচনা চলছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে রয়টার্স প্রথম এই উদ্যোগের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সাম্প্রতিক ইরান-কেন্দ্রিক উত্তেজনা উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে এনেছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহনেও বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও উদ্বেগ বেড়েছে।
গত জানুয়ারিতে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছিলেন, আঙ্কারা সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতা জোরদারের লক্ষ্যে বৃহত্তর একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের পক্ষে।
এর আগে রয়টার্সকে এক সৌদি কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের বিদ্যমান প্রতিরক্ষা চুক্তিতে কোনো এক পক্ষের ওপর হামলাকে উভয় দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং প্রয়োজনে "সব ধরনের সামরিক পদক্ষেপ" নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
তবে নতুন এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে পাকিস্তান সরকার, দেশটির সেনাবাহিনী এবং সৌদি আরব সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।