
গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার ভেতরে প্রবেশ করে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাজী মোহাম্মদ আলীর ওপর হামলার চেষ্টা এবং এর আগে তার ১৭ বছর বয়সী ছেলেকে মারধর, ছুরিকাঘাত ও স্বর্ণের চেইন, মোবাইল ফোন ও হাতঘড়ি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাজী মোহাম্মদ আলীর ছেলে রিহান (১৭) মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ডান পায়ের হাড় ভেঙে আহত অবস্থায় ছিলেন। তিনি ক্র্যাচের সাহায্যে চলাফেরা করছিলেন। ওইদিন তিনি পূর্ব কলমেশ্বরে বন্ধু সানীর অফিসে গিয়ে সিফাত, সানিয়াত, রাজ ও আরাফাতের সঙ্গে আড্ডা দেন। পরে তার বন্ধুরা পূর্ব কলমেশ্বর এলাকায় গেলে তাদের সঙ্গে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরোধের খবর পান রিহান।
অভিযোগে বলা হয়, খবর পেয়ে রিহান অন্য বন্ধুদের সহায়তায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পূর্ব কলমেশ্বরে ১ নম্বর অভিযুক্ত তারেক সরদারের বাড়ির সামনে যান। সেখানে তার বন্ধুরা না থাকায় তিনি বাড়িতে ফেরার সময় তারেক সরদার, রনি ও ইয়াছিনসহ আরও ৮-১০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং অতর্কিতভাবে মারধর করেন।
এ সময় রনি তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে রিহানের বাম হাতের কনুইয়ের নিচে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রনি ও ইয়াছিন রিহানের গলায় থাকা এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, একটি আইফোন প্রোম্যাক্স এবং হাতে থাকা একটি ঘড়ি নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চেইনটির মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, মোবাইল ফোনের মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ঘড়িটির মূল্য ৩ হাজার ৫০০ টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মারধরের পর রিহানকে তারেক সরদারের বাড়ির পাশের একটি দোকানের সামনে আটকে রাখা হয়। পরে খবর পেয়ে হাজী মোহাম্মদ আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। তিনি ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজাহান ও আতাউর রহমান বিএসসির নির্দেশে অভিযুক্তরা তাদের ওপরও চড়াও হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন।
এরপর ছেলেকে নিয়ে হাজী মোহাম্মদ আলী গাছা থানায় বিষয়টি জানাতে গেলে শাকিল ও কামাল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে থানার ভেতরে প্রবেশ করে তাকে মারধরের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাদের থানা থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগকারীর দাবি। এ ঘটনার বিষয়ে থানার সিসিটিভি ফুটেজে প্রমাণ পাওয়া যাবে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাজী মোহাম্মদ আলী সাংবাদিকদের বলেন, অভিযুক্তরা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের মধ্যে অধিকাংশই আওয়ামী লীগকে অর্থের মাধ্যমে সহযোগিতা করতেন বলেও তিনি দাবি করেন। থানার ভেতরে ঢুকে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা হাজী মোহাম্মদ আলী ও তার ছেলেকে সুযোগ পেলে হত্যা বা জখম এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দিচ্ছেন। এতে তিনি ও তার ছেলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন।
পরে আহত রিহানকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাসপাতালের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৭২৭০/৩২ এবং তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এঘটনার বিষয়ে গাছা থানায় গিয়ে জানতে চাইলে এএসআই মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ওইদিন তিনি ডিউটি অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন। ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাজী মোহাম্মদ আলী ওসির সঙ্গে দেখা করতে থানায় এলে বাইরে থেকে কয়েকজন ব্যক্তি উত্তেজিত অবস্থায় থানার ভেতরে প্রবেশ করেন এবং তার ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তিনি উত্তেজিত ব্যক্তিদের থানা থেকে বের করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পুলিশের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ওই ঘটনায় হামলাকারীদের হাতে থাকা দুটি লাঠি জব্দ করা হয়েছে।
তবে থানার ভেতরের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে গাছা থানা কর্তৃপক্ষ গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে তা দিতে রাজি হয়নি।
এ বিষয়ে গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম রব্বানীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি। তবে তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাজী মোহাম্মদ আলী গাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্তের জন্য এএসআই মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত সত্যতা জানা যাবে বলে তিনি জানান এবং পরবর্তীতে বক্তব্য দেবেন বলেও জানিয়েছেন।
এদিকে, অভিযোগে অভিযুক্ত তারেক সরদার, রনি, ইয়াছিন, শাকিল, কামাল, শাহজাহান ও আতাউর রহমান বিএসসির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে সরেজমিনে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।