
এ ঘটনায় তুষার খান ও তাঁর ভাইসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে গাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মজিবুর রহমান। তবে তাঁর আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তুষার খান। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন।
গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার শরীফপুর এলাকায় লুইটেক্স ম্যানুফ্যাকচারিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এ বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্যবসায়ী মজিবুর রহমানের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় এক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা প্রতিষ্ঠানটির ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন। ওই নেতার ঘনিষ্ঠ হিসেবে তুষার খান সেখানে ব্যবসা করতেন। তবে প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের সঙ্গে তুষারের কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি ছিল না বলে দাবি তাঁর।
মজিবুর রহমান জানান, ২০১৩ সালে শরীফপুর এলাকায় নিজের জমিতে ছয়তলা ভবন নির্মাণ করে তিনি লুইটেক্স ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের কাছে ভাড়া দেন। সরকার পরিবর্তনের পর প্রতিষ্ঠানটির ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে বাধার সম্মুখীন হন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে তুষার খান প্রতিষ্ঠানটিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। এ নিয়ে ঝামেলা না করার অনুরোধ জানালেও প্রতি কেজি ঝুটের বিপরীতে তিন টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রতিষ্ঠানের ঝুট পরিবহণে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং মালামাল আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মজিবুর রহমানের দাবি, একটি সিসিটিভি ফুটেজে তুষার খানকে দলবল নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ তাঁর। থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা তাঁদের নির্দেশ না মানলে প্রতিষ্ঠানটির ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে আসছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ অক্টোবর ঝুট পরিবহণের জন্য শ্রমিকসহ একটি ট্রাক পাঠানো হলে গাছার মালেকের বাড়ি রোডে সেটির গতিরোধ করে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এর দুই দিন পর, ১৭ অক্টোবর সকাল ৯টার দিকে একই প্রতিষ্ঠানের ঝুট নেওয়ার জন্য শ্রমিকসহ আরেকটি ট্রাক পাঠানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সকাল ১০টার দিকে মালেকের বাড়ি রোডে তুষার খান, ইসতিয়াক খানসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২০ থেকে ২৫ জন ট্রাকটির পথ আটকে দেন। এ সময় ট্রাকচালক ও শ্রমিকদের মারধর করা হয় বলে দাবি করেন মজিবুর রহমান। একপর্যায়ে ট্রাকচালকের বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে ট্রাকটি এলাকা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তাঁর।
অভিযোগ অস্বীকার তুষার খানের
এসব অভিযোগের বিষয়ে গাছা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তুষার খান বলেন, তাঁর ব্যবসা পরিচালনার লাইসেন্স রয়েছে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছেন। মজিবুর রহমানের অভিযোগ সত্য নয় দাবি করে তিনি বলেন, চাঁদা চাওয়ার কোনো সঙ্গত কারণ নেই। অভিযোগকারী নিজের ইচ্ছামতো অভিযোগ করেছেন।
দলীয় পরিচয়ে চাঁদাবাজির সুযোগ নেই: প্রতিমন্ত্রী
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এবং নৌপরিবহণ ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান যুগান্তরকে বলেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি কিংবা দখলদারত্বের কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত দলীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তদন্তের কথা জানাল পুলিশ
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে। ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য দুই পক্ষের বসার কথা রয়েছে।