
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার শতখালী নতুন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, সারের ডিলার নিয়োগ ও সরকারি অনুদান বিতরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট ও লেখালেখি চলছিল। এর জেরে এলাকায় রাজনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় কয়েকজন আহত হন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘর্ষে জড়ানো পক্ষগুলোর একদিকে ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের সমর্থকেরা। অন্যদিকে ছিলেন যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের সমর্থক ওয়াদুদ বিশ্বাসের অনুসারীরা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শালিখা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মিল্টন মুন্সী জানান, সারের ডিলার নিয়োগ ও সরকারি অনুদান নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখির সূত্র ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করে ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিক জসীম উদ্দীনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। তিনি দৈনিক গ্রামের কাগজ ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের শালিখা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।
আহত সাংবাদিকের অভিযোগ, সংঘর্ষের ভিডিও ধারণের সময় মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও তাঁর সমর্থকেরা তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। এ সময় তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও নিয়ে যাওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. গোলাম জাহিদ হোসেন বলেন, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক সংগঠনটির আগের কমিটিতে ছিলেন, তবে বর্তমান কমিটিতে তাঁর কোনো পদ নেই। রাজনৈতিক বিরোধ যা-ই থাকুক, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।
শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইমুন নেসা জানান, আহত সাংবাদিককে হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
এ বিষয়ে শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: এনপিবি নিউজের প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে নতুনভাবে লেখা।
মন্তব্য করুন