
‘আমি করুণা চাই না, ন্যায়বিচার চাই। আমি আমার প্রাপ্য সুযোগটুকু পেতে চাই।’ এ কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ৪৫তম বিসিএসে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী মো. রুবেল হোসেন। ২০২৬ সালে প্রকাশিত গেজেটে নিজের নাম না পেয়ে হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাঁর। কেন গেজেটে নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তা জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রুবেল হোসেন বরগুনার বেতাগী উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেওড়াবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. ইউনুস হাওলাদারের ছেলে। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৭৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
রুবেল জানান, ২০২২ সালে ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তিনি প্রস্তুতি শুরু করেন। ২০২৩ সালে প্রিলিমিনারি এবং ২০২৪ সালে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে ২০২৫ সালে ক্যাডার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন তিনি। পরিবারের প্রথম বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন পূরণের আশায় অসুস্থ মা-বাবা, বড় ভাই ও বোনের মুখে স্বস্তির হাসি দেখার অপেক্ষায় ছিলেন।
কিন্তু ২০২৬ সালে গেজেট প্রকাশের পর সেখানে নিজের নাম না পেয়ে তাঁর সব প্রত্যাশা ভেঙে যায়। রুবেলের ভাষ্য, গেজেটে নাম না থাকায় শুধু তাঁর ব্যক্তিগত স্বপ্নই বাধাগ্রস্ত হয়নি, ভেঙে গেছে পরিবারের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাও।
তিনি জানান, ৪৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেলেও ভাইভায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। অন্যদিকে, ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ৪৫তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার ওপর আস্থা রেখে এবং রিপিট ক্যাডার-সংক্রান্ত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আর ভাইভায় অংশ নেননি।
রুবেলের দাবি, ৪৫তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু গেজেটে নাম না থাকায় এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন তিনি।
নিজের পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে রুবেল বলেন, তাঁর বাবা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় দীর্ঘ ১৬–১৭ বছরের শাসনামলে তাঁদের পরিবারকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানসিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তবে তাঁর নিজের নামে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
রুবেল বলেন, কী কারণে তাঁকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা জানতে চান তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা আপত্তি থাকলে সেটির স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও ন্যায়সংগত মূল্যায়ন হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, অসুস্থ মা-বাবার পাশে দাঁড়ানো এবং পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও ব্যক্তিগত ত্যাগের মধ্য দিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণের কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত গেজেটে নাম না থাকায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। পরিবারের সদস্যদের মুখোমুখি হওয়া নিয়েও হতাশা ও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আবেদন জানিয়ে রুবেল বলেন, তাঁর বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে পুনর্বিবেচনা করা হোক এবং গেজেটে নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হোক। তিনি কারও করুণা চান না; চান নিজের ন্যায্য অধিকার এবং ন্যায়বিচার।
রুবেলের ভাষ্য, রাষ্ট্রের সেবা করার স্বপ্ন এখনো তাঁর রয়েছে। তিনি ঘুরে দাঁড়িয়ে দেশের জন্য কাজ করতে চান। তবে তার আগে নিজের বিষয়ে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা পাওয়া জরুরি বলে মনে করছেন তিনি।
এদিকে, গেজেটে রুবেলের নাম না থাকাকে কেন্দ্র করে বেতাগী উপজেলায়ও আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিভিন্ন জায়গায় তাঁর বিষয়টি পুনরায় যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি উঠেছে।
মন্তব্য করুন