
গোয়ালঘরে অগ্নিকাণ্ডে একটি দুধেল গাভী ও তার বাছুর পুড়ে মারা গেছে। ঈদুল ফিতরের আগমুহূর্তে এ ঘটনায় দরিদ্র পরিবারটির একমাত্র আয়ের উৎস ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তাদের মধ্যে নেমে এসেছে শোক ও হতাশার ছায়া।
রোববার (১৫ মার্চ) দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে শিবচর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সেলিম শিকদারের বাড়ির গোয়ালঘরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সেলিম শিকদার একটি দুধেল গাভী লালন-পালন করতেন এবং সেই গাভীর দুধ বিক্রি করেই মূলত পরিবারের দৈনন্দিন খরচ চালাতেন। গাভীটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কেজি দুধ পাওয়া যেত। সেই দুধ বিক্রি করে সংসারের বাজারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করতেন তিনি। গাভীটির সঙ্গে ছিল একটি ছোট বাছুর, যাকে ঘিরে ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছলতার আশা করছিল পরিবারটি।
সেলিম শিকদারের ছেলের স্ত্রী জানান, দুপুরের দিকে হঠাৎ গোয়ালঘরের দিক থেকে বাছুরটির অস্বাভাবিক লাফালাফি ও শব্দ শুনে তিনি সেখানে যান। গিয়ে দেখেন গোয়ালঘরের ভেতরে আগুন জ্বলছে। সে সময় তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয়রা দ্রুত পানি ও বিভিন্ন উপায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তবে ততক্ষণে আগুনে গোয়ালঘরের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে যায় এবং গাভী ও বাছুরটি পুড়ে মারা যায়।
স্থানীয়দের ধারণা, এ ঘটনায় পরিবারটির প্রায় চার লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শাহীন গোমস্তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানান।
এদিকে স্থানীয় যুবসমাজ, প্রতিবেশী ও মসজিদের ইমামরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকেও পরিবারটিকে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ঈদের আগমুহূর্তে এমন দুর্ঘটনায় পরিবারটির মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। স্থানীয়দের আশা, প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে হয়তো আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে অসহায় পরিবারটি।
মন্তব্য করুন