
শিবচরে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতির এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বিবেক টিম। সংগঠনটির উদ্যোগ, নেতৃত্ব ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে পবিত্র আল কুরআনের একটি নান্দনিক ভাস্কর্য নির্মিত হয়েছে, যা ইতোমধ্যে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষসহ সচেতন মহলের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।
জানা যায়, পূর্বে এই স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ভাস্কর্য স্থাপিত ছিল। তবে গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরে স্থানীয় উৎসুক জনতা সেটি ভেঙে ফেলে। দীর্ঘদিন ভাঙা ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকায় বিষয়টি এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে আলোচনা ও ভাবনার জন্ম দেয়।
এই প্রেক্ষাপটে ফাহিম রহমানের নেতৃত্বে বিবেক টিম দায়িত্ব গ্রহণ করে স্থানটিকে নতুনভাবে গড়ে তোলার। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শিবচরের আলেম সমাজের উপস্থিতিতে আল কুরআনের ভাস্কর্য নির্মাণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। উদ্বোধনী দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন পীরজাদা সাইদ উদ্দীন আহম্মেদ হানজালা হাজী শরীয়তুল্লাহ (রহ.)-এর বংশধর, সপ্তম পুরুষ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলাম শিবচর শাখার আমির সরোয়ার মৃধা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শিবচর শাখার সভাপতি হাফেজ জাফর আহমেদ, বিবেক টিমের সদস্যবৃন্দ এবং হাজী শরীয়াতুল্লাহ সমাজ কল্যাণ পরিষদের নেতাকর্মীরা।
দেশ ও প্রবাসে অবস্থানরত অসংখ্য দানশীল ও সহায়তাকারীদের সহযোগিতায় ধাপে ধাপে নির্মাণকাজ এগিয়ে যায়। টানা প্রায় ছয় মাসের পরিকল্পিত, শ্রমসাধ্য ও নিবেদিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অবশেষে আল কুরআনের ভাস্কর্যটি পূর্ণতা লাভ করে।
উল্লেখ্য, পূর্বে এই স্থানটি ‘স্বাধীনতা চত্বর’ নামে পরিচিত ছিল। নতুন উদ্যোগের আলোকে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘আল কুরআনের চত্বর’।
গত মঙ্গলবার স্বল্পপরিসরে এক ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভাস্কর্যটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হয়। উদ্বোধনী মোনাজাত পরিচালনা করেন হাজী শরীয়তুল্লাহ (রহ.)-এর বংশধর, ষষ্ঠ পুরুষ মুবিন উদ্দিন আহমেদ (নওশিন মিয়া)। এ উপলক্ষে উপস্থিত মুসল্লি ও স্থানীয়দের মাঝে দোয়া ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিমত, এই ভাস্কর্য কেবল একটি স্থাপনা নয় এটি ধর্মীয় চেতনা, সামাজিক ঐক্য ও সমাজসেবার এক উজ্জ্বল প্রতীক। বিবেক টিমের এই উদ্যোগ শিবচরের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও অনন্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
মন্তব্য করুন