
শিবচর উপজেলায় কৃষকদের অন্যতম প্রধান রবি ফসল পেঁয়াজ। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৪,০০৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। প্রতি বছর বুকভরা আশা নিয়ে এই ফসল চাষ করলেও এবার বাজারদর ভেঙে পড়ায় চরম হতাশায় দিন কাটছে হাজারো কৃষকের।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ গুটি পেঁয়াজ কিনতে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় ৪ হাজার টাকা। এরপর জমি প্রস্তুত, হালচাষ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিক ব্যয়সহ উৎপাদন খরচ আরও বেড়েছে। কিন্তু বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০০ টাকায়। এতে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, মূলধনের সামান্য অংশও তুলতে পারছেন না তারা।
কৃষকদের অভিযোগ, রমজানের আগে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেশি থাকলেও তখন অধিকাংশ ক্ষেতের পেঁয়াজ তোলার উপযোগী হয়নি। আর যখন উত্তোলনের সময় এসেছে, ঠিক তখনই হঠাৎ করে বাজারদর পড়ে গেছে। ফলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা।
একাধিক কৃষক জানান, সামনে ঈদ হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবার নিয়ে ঈদ উদযাপন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। একজন কৃষক বলেন, বাজারে এক কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা, অথচ এক কেজি মাংস কিনতে আমাদের দুই মণ পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সংসার চালানোই কঠিন।
স্থানীয় কৃষকেরা আরও জানান, শিবচরের অধিকাংশ জমি দ্বিফসলি হওয়ায় পেঁয়াজ কাটার পর সেখানে পাট আবাদ করা হয়। তাদের আশা, পাটের দাম ভালো থাকলে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তবে অনেক কৃষকই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করায় এবার দেনা পরিশোধ নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
শিবচরের বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকেরা বলেন, পেঁয়াজ শুধু মৌসুমি ফসল নয়, এটি তাদের সারা বছরের জীবিকার অন্যতম ভরসা। কিন্তু দাম কমে যাওয়ায় অনেকেই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ফলে এবারের ঈদ আনন্দের বদলে অনেক পরিবারের জন্য উদ্বেগ ও কষ্ট বয়ে আনছে।
কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন ও সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো গেলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক দাম পেতে পারেন।
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, গত বছর পেঁয়াজের চাহিদা বেশি থাকায় এ বছর বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। ফলে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমে গেছে। তিনি কৃষকদের বীজ উৎপাদনের দিকে ঝুঁকতে পরামর্শ দেন, কারণ এতে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে ন্যায্যমূল্য না পেলে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষক পেঁয়াজ চাষ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন, যা দেশের সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মন্তব্য করুন