
শিবচর থেকে ঢাকা (গুলিস্তান) রুটে চলাচলকারী আনন্দ পরিবহনের বর্তমান ভাড়া ২৫০ টাকা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত ভাড়া কাঠামোর তুলনায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, অথচ এ বিষয়ে পরিবহন কর্তৃপক্ষ কোনো নতুন ভাড়া চার্ট দেখাতে পারেনি।
জানা যায়, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে আন্তঃজেলা বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ২৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বেড়েছে মাত্র ১১ পয়সা।
শিবচর থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত প্রায় ৬৭ কিলোমিটার দূরত্ব হিসেবে হিসাব করলে নতুন হার অনুযায়ী যাত্রীপ্রতি অতিরিক্ত ভাড়া হওয়ার কথা মাত্র ৭ টাকা ৩৭ পয়সা। অথচ আনন্দ পরিবহন পূর্বের ২০০ টাকা ভাড়া থেকে সরাসরি ৫০ টাকা বৃদ্ধি করে বর্তমানে ২৫০ টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরকার নির্ধারিত হার অনুযায়ী ৬৭ কিলোমিটার পথের মূল ভাড়া দাঁড়ায় ১৪৯ টাকা ৪১ পয়সা। এর সঙ্গে পদ্মা সেতুর ২ হাজার টাকা এবং ধলেশ্বরী সেতুর ২৯৫ টাকা টোল যোগ করলে মোট টোল হয় ২ হাজার ২৯৫ টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাসগুলোর আসন সংখ্যা ৫২। সে হিসাবে প্রতি যাত্রীর ওপর টোলের বোঝা পড়ে প্রায় ৪৪ টাকা ১৩ পয়সা (২,২৯৫ ÷ ৫২)। ফলে সরকার নির্ধারিত মূল ভাড়া ও টোল মিলিয়ে যাত্রীপ্রতি মোট ভাড়া দাঁড়ায় প্রায় ১৯৩ টাকা ৫৪ পয়সা।
অর্থাৎ বর্তমান নির্ধারিত ২৫০ টাকা ভাড়ার তুলনায় যাত্রীপ্রতি প্রায় ৫৬ টাকা ৪৬ পয়সা বেশি আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিয়মিত যাত্রী মো. আব্দুল কাদের বলেন, “জ্বালানির দাম বাড়লে ভাড়া কিছুটা বাড়তে পারে, সেটি আমরা বুঝি। কিন্তু কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ১১ পয়সা বাড়লেও যাত্রীপ্রতি ৫০ টাকার বেশি বৃদ্ধি কীভাবে হলো, তার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না।”
আরেক যাত্রী নাজমুল ইসলাম বলেন, “প্রয়োজনের তাগিদে প্রায়ই ঢাকা যাতায়াত করতে হয়। আগে ২০০ টাকা ভাড়া দিলেও এখন ২৫০ টাকা দিতে হচ্ছে। এতে যাতায়াত ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। সাধারণ মানুষের জন্য এটি বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
এ বিষয়ে আনন্দ পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার রেজাউল গোমস্তার কাছে নতুন ভাড়া নির্ধারণের চার্ট দেখতে চাইলে তিনি বলেন, “নতুন ভাড়ার চার্ট এখনও হাতে পাইনি।” তবে তিনি দাবি করেন, সব সময় বাস পূর্ণ যাত্রী নিয়ে চলাচল করে না। যাত্রী কম থাকলে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যায়। তাদের হিসাবে যাত্রীপ্রতি খরচ প্রায় ২৩৫ টাকার মতো পড়ে। এছাড়া খুচরা টাকা ফেরত দেওয়ার ঝামেলা থাকায় ২৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, ভাড়া নির্ধারণে স্বচ্ছতার অভাব এবং কার্যকর তদারকির ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত অর্থ গুনতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের দাবি, বিআরটিএ, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ভাড়া নির্ধারণ এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ যাচাই করুক।
শিবচরবাসীর প্রশ্ন, সরকার নির্ধারিত ভাড়া বৃদ্ধি যেখানে যাত্রীপ্রতি মাত্র ৭ টাকা ৩৭ পয়সা, সেখানে ৫০ টাকারও বেশি ভাড়া বৃদ্ধির ভিত্তি কী? এছাড়া ঈদ ও অন্যান্য উৎসবকেন্দ্রিক সময়ে একই রুটে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ।
মন্তব্য করুন