অপহরণের আশঙ্কা পরিবারের, থানায় জিডি; তদন্তে পুলিশ
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় ব্যাংক থেকে ১২ লাখ টাকা উত্তোলনের পর সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী ও তার স্কুলপড়ুয়া ছেলে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অপহরণের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে শিবচর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে।
নিখোঁজরা হলেন উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের আলেপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী আব্দুল মালেক হাওলাদারের স্ত্রী মাকসুদা বেগম (৪০) এবং তাদের ছেলে রিহাব হাওলাদার (১৩)। রিহাব শিবচর নন্দকুমার মডেল ইনস্টিটিউশন এর সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল মালেক হাওলাদার প্রায় ছয় বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত। স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও ছেলে রিহাব আলেপুর গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন। গত ২৩ জুন একটি এনজিও থেকে মাকসুদা বেগমের নামে ১২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ওই চেকের টাকা উত্তোলনের জন্য শিবচরের পূর্বালী ব্যাংকে যান তিনি। এরপর থেকে মা-ছেলের সঙ্গে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান না পেয়ে শিবচর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের ঘটনায় প্রবাসী পরিবারের পাশাপাশি উভয় পক্ষের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
নিখোঁজ মাকসুদা বেগমের দেবর আব্দুল বারেক হাওলাদার বলেন, “আমার ভাবী অপ্রয়োজন ছাড়া কখনো বাড়ির বাইরে যান না। তিনি একজন সৎ ও ভদ্র মানুষ। ব্যাংক থেকে ১২ লাখ টাকা উত্তোলনের পর থেকেই তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের ধারণা, তারা কোনো অপহরণকারী চক্রের কবলে পড়তে পারেন। আমরা পুলিশ প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করছি।”
বিদেশে অবস্থানরত আব্দুল মালেক হাওলাদারও স্ত্রী ও সন্তানের সন্ধান পেতে প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, নিখোঁজের ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের জন্য উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিয়াজ-কে দায়িত্ব দিয়েছেন। পুলিশ সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে এবং নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে পরিবারের পক্ষ থেকে অপহরণের আশঙ্কা প্রকাশ করা হলেও, পুলিশ এখনো অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।