
ফেসবুকের মূল কোম্পানি মেটা জানিয়েছে, যেসব ক্রিয়েটরের অন্য প্ল্যাটফর্মে অন্তত ১০ লাখ (১ মিলিয়ন) অনুসারী রয়েছে, তারা এই কর্মসূচির জন্য আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত ক্রিয়েটরদের প্রতি মাসে অন্তত ১৫টি রিলস (স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও) পোস্ট করতে হবে।
তবে এই সুবিধা আপাতত যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ক্রিয়েটরদের জন্য সীমিত এবং সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত এই অর্থ প্রদান করা হবে। যাদের অনুসারী এক মিলিয়নের কম, তারাও অংশ নিতে পারবেন—তাদের জন্য মাসিক আয় হতে পারে সর্বোচ্চ ১ হাজার ডলার।
মেটা জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিভিন্ন মনিটাইজেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে তারা ক্রিয়েটরদের প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বেশি নির্মাতাকে ফেসবুকে সক্রিয় করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। কনটেন্ট ক্রিয়েটর গ্রুপ ‘সাইডমেন’ এর ম্যানেজার জর্ডান শোয়ার্জেনবার্গার মনে করেন, এটি কিছুটা “বাধ্যতামূলক বা মরিয়া” উদ্যোগের মতো দেখাচ্ছে। তার মতে, বড় ক্রিয়েটররা সাধারণত ব্র্যান্ড ডিল বা ইউটিউব থেকে এর চেয়ে বেশি আয় করেন।
তিনি বলেন, ‘১৫টি ভিডিওর জন্য মাসে ৩ হাজার ডলার—মানে প্রতি ভিডিও প্রায় ২০০ ডলার। অনেক ক্ষেত্রেই এটি প্রোডাকশন খরচই ওঠাতে পারবে না।’
এছাড়া, শুধু ক্রিয়েটর আনা মানেই দর্শক আসবে এমনটা নিশ্চিত নয় বলেও মনে করেন তিনি। কারণ ব্যবহারকারীরা সাধারণত নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মের জন্যই কনটেন্ট দেখে থাকেন, ক্রিয়েটরের জন্য নয়।
তবে এই কর্মসূচির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী ক্রিয়েটররা ফেসবুকের মনিটাইজেশন সুবিধাও পাবেন, যেখানে ভিউ ও ওয়াচটাইমের ভিত্তিতে আয় করা সম্ভব।
বিশ্লেষকদের মতে, টিকটক ও ইউটিউবের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ফেসবুকের এই উদ্যোগ নতুন হলেও, এটি কতটা কার্যকর হবে তা সময়ই বলে দেবে।
সূত্র: বিবিসি
মন্তব্য করুন