
বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে উন্মাদনায় মেতে উঠেছে পুরো বিশ্ব। সেই উন্মাদনার বাইরে নয় বাংলাদেশও। দেশের ফুটবলপ্রেমীদের বড় একটি অংশ ঐতিহ্যগতভাবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থক। দুই দলের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলে সমর্থকদের তুমুল আলোচনা ও ট্রল।
রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে ২৯ জুন শক্তিশালী ব্রাজিলের মুখোমুখি হয় জাপান। ম্যাচের শুরুতেই গোল করে এগিয়ে যায় জাপান। এতে ব্রাজিলের পরাজয় দেখতে মুখিয়ে থাকা অনেক আর্জেন্টিনা সমর্থক জাপানের পক্ষ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। বাংলাদেশেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাপানের সমর্থনে অসংখ্য পোস্ট ও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ব্রাজিলের বিপক্ষে যে দলই খেলুক, তাদের সমর্থন করার প্রবণতা আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে বহুদিন ধরেই দেখা যায়।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে ব্রাজিল। পরপর দুই গোল করে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে সেলেসাওরা। ব্রাজিলের এই প্রত্যাবর্তন যেমন তাদের সমর্থকদের আনন্দে ভাসিয়েছে, তেমনি হতাশ করেছে জাপানকে সমর্থন করা আর্জেন্টিনা ভক্তদের।
এদিকে ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের ঐতিহাসিক পরাজয়ের পর থেকে ‘সেভেন আপ’ বলে ব্রাজিলকে ট্রল করে আসছেন অনেক আর্জেন্টিনা সমর্থক। জার্মানির সেই জয়কে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রাজিলকে খোঁচা দেওয়ার ঘটনাও নিয়মিত দেখা যায়।
অন্যদিকে ৩০ জুন অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ৩২-এর আরেক ম্যাচে মুখোমুখি হয় জার্মানি ও প্যারাগুয়ে। প্রথমার্ধে গোল করে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরে জার্মানি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও কোনো দল গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
রোমাঞ্চকর টাইব্রেকারে ছয়টি শটের মধ্যে জার্মানি সফল হয় তিনটিতে, আর প্যারাগুয়ে সফল হয় চারটিতে। ফলে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে।
এই জয়ের নায়ক ছিলেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক। পুরো ম্যাচজুড়ে জার্মানির একের পর এক আক্রমণ ঠেকানোর পাশাপাশি টাইব্রেকারেও গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে স্মরণীয় জয় এনে দেন তিনি। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত জার্মানির বিশ্বকাপ অভিযান থামিয়ে দেয়।
মন্তব্য করুন