
গাজীপুর মহানগরের বাসন এলাকার ঈদগাহ মাঠে স্থানীয় সুধীবৃন্দের উদ্যোগে এবং বাসন মেট্রো থানার সার্বিক সহযোগিতায় “মাদক সেবন বন্ধ কর, সুশীল সমাজ গড়ে তোল” প্রতিপাদ্যে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যারা মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত, তাদের কোনোভাবেই রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবেন না। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতেই হবে।”
এ সময় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার অপরাধ দমনে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, মাদক কারবারি বা চাঁদাবাজকে গ্রেফতারে কার্যকর তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে ধরিয়ে দিলে তথ্যদাতাকে এক লাখ টাকা এবং ছিনতাইকারীকে ধরতে সহায়তা করলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “অপরাধীদের কোনো পরিচয় নেই। সমাজকে নিরাপদ রাখতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।”
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি। প্রধান আলোচক ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার এবং সম্মানিত অতিথি ছিলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম. মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দেয়। মাদকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নতুন প্রজন্মকে রক্ষায় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে মো. মজিবুর রহমান বলেন, “মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কোনো আপস নেই। সমাজের প্রতিটি মানুষকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। জনপ্রতিনিধিদেরও এ বিষয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।”
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে না তুললে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। মাদককে কেন্দ্র করে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, পারিবারিক সহিংসতাসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ বেড়ে চলেছে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানে বাসন মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সুধীজন এবং বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
মন্তব্য করুন