আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ঘরমুখো যাত্রা শুরু হওয়ায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে বাড়তে শুরু করেছে যানবাহনের চাপ। আগামীকাল থেকে টানা সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় শেষ কর্মদিবস শেষে বাড়ির পথে ছুটছেন দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার মানুষ।
রবিবার (২৪ মে) দুপুরের পর থেকেই এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও পণ্যবাহী যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলগামী লেনে দূরপাল্লার পরিবহনের চাপ বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিকেল ৪টার পর থেকে যানবাহনের চাপ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে। সন্ধ্যা ও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং আগামীকাল ভোরের দিকে চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া প্রান্ত দিয়ে পদ্মা সেতু পার হয়েছে ১৩ হাজার ২৭৯টি যানবাহন। এ থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৬৮ লাখ ৬ হাজার ৩৫০ টাকা। অন্যদিকে জাজিরা প্রান্ত দিয়ে পারাপার হয়েছে ১২ হাজার ৭২০টি যানবাহন, যেখানে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। দুই প্রান্ত মিলিয়ে মোট ২৫ হাজার ৯৯৯টি যানবাহন চলাচল করেছে এবং মোট টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৩৫০ টাকা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এক্সপ্রেসওয়ের পাচ্চর গোলচত্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় রয়েছে। দূরপাল্লার বাস থেকে নেমে অনেক যাত্রীকে থ্রি-হুইলারযোগে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। তবে ঢাকামুখী লেনে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ তুলনামূলক কম রয়েছে।
পারভেজ মিয়া নামে এক যাত্রী বলেন, “ঈদের সময় বাড়ি ফেরা এখনো চ্যালেঞ্জের। তবে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর আগের মতো ভোগান্তি নেই। যদিও ভাড়া কিছুটা বেশি নিচ্ছে পরিবহনগুলো।
এদিকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে মহাসড়কে নজরদারি জোরদার করেছে হাইওয়ে পুলিশ।
শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দুটি মোবাইল টিম ও একটি পিকেট টিমসহ মোট তিনটি দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে নিয়মিত টহল বাড়ানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন