
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জের ১ নম্বর চর আবাবিল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক কাউসারের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।
কাউসার হায়দরগঞ্জের ১ নম্বর চর আবাবিল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মনির মিয়ার ছেলে। তিনি বর্তমানে ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, কাউসার দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কাজ করছেন। তাদের অভিযোগ, তার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ফেক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে মাদক ব্যবসার সঙ্গে তাকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, গুরুতর কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা মৌখিক বক্তব্যের ভিত্তিতে কাউকে অভিযুক্ত করা উচিত নয়। অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে উপস্থাপনের দাবি জানান তারা।
তবে কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, কাউসার নিজে সরাসরি মাদক বিক্রি না করে অন্যদের মাধ্যমে কথিত মাদক ব্যবসা পরিচালনা করেন। তাদের বক্তব্যে আক্তার ওরফে ‘চোরা আক্তার’ এবং রুবেল ওরফে ‘মাল রুবেল’ নামে দুই ব্যক্তির নাম উঠে আসে। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে কোনো নথি, মামলা সংক্রান্ত তথ্য, মাদক উদ্ধারের রেকর্ড বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের বক্তব্য, মাদক ব্যবসার মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিরোধ বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, কাউসার এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের একটি অংশ তার ওপর ক্ষুব্ধ হতে পারে। তার দাবি, সেই বিরোধ থেকেই কাউসারের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তবে শিক্ষকের এ বক্তব্যও তার ব্যক্তিগত দাবি; এর স্বতন্ত্র প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে কাউসারের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগের পক্ষে নিশ্চিত কোনো প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগটির সত্যতা নির্ধারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে কাউসারের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগ এবং তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রশাসনের উচিত বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা। তদন্তে কাউসারের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগের সত্যতা না থাকলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।
মন্তব্য করুন