
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ মোল্লার বাড়িতে দফায় দফায় হা’মলা, ভাঙচুর ও ক’কটেল বি’স্ফোরণের অ’ভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের সদস্যরা আ’তঙ্কে রয়েছেন বলে অ’ভিযোগ করেছেন তারা।
চেয়ারম্যানের অ’ভিযোগ, তার সন্তান ও দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির হোসেন মোল্লা এবং আরেক ছেলে দিদার হোসেন মোল্লার নেতৃত্বে লোকজন নিয়ে তার বাড়িতে কয়েক দফা হা’মলা ও ভা’ঙচুর করা হয়েছে। সর্বশেষ আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ির চারপাশে ককটেল বি’স্ফোরণ ঘটিয়ে দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ মোল্লা বলেন, জমি দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তার সন্তানদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে।
তার অ’ভিযোগ, ছোট স্ত্রীর জমি জোরপূর্বক দখলে নিয়েছেন দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান মনির হোসেন মোল্লা। পরে তিনি ছোট স্ত্রীকে অন্যত্র জমি দেন। এরপর মনির ও দিদারকে জমির দখল ছেড়ে দেওয়ার জন্য একাধিকবার বলা হলেও তারা তা করেননি।
আবদুর রশিদ মোল্লার ভাষ্য, এরপর থেকেই কয়েকবার বাড়িতে এসে আমাকে ও আমার ছোট স্ত্রীর ছেলে-মেয়েদের মা’রধরের চেষ্টা করা হয়েছে। শতাধিক লোক এনে বাড়িঘর ভাঙচুর ও হু’মকি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমি ও আমার পুরো পরিবার গৃহবন্দী অবস্থায় রয়েছি। মনির ও দিদাররা বাড়ির চারপাশে ঘোরাফেরা করছে।
তিনি আরও অ’ভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত অ’ভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি। পুলিশ বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করার পরামর্শ দিচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
চেয়ারম্যান বলেন, যারা আমাকে হুম’কি দিচ্ছে, বাড়িঘর ভা’ঙচুর করছে, তাদের সঙ্গে কীভাবে বসে সমাধান করব? আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
চেয়ারম্যানের স্ত্রী হাজেরা বেগম বলেন, হা’মলার ঘটনায় তারা চরম আ’তঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
তিনি বলেন, খুব ভয় লাগছে। ঘর থেকে বের হতে পারছি না। বাজার কিংবা দোকানেও যেতে পারছি না। বাড়ির বাইরে লোকজন ওঁত পেতে রয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকবার হামলা করা হয়েছে।
অ’ভিযোগের বিষয়ে মনির হোসেন মোল্লার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে তার ভাই দিদার হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে বৈঠক হয়েছে। এ কারণে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। বাবাকে নিয়ে বৈঠকে বসেছেন কি না—এ প্রশ্নেরও সরাসরি উত্তর দেননি তিনি।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একের পর এক হাম’লা ও ভাঙচুরের অভি’যোগের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
মন্তব্য করুন