
ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে শিবচর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কামারপল্লীগুলোতে এখন চলছে কর্মচাঞ্চল্যের ভিন্ন এক দৃশ্য। আগুনের লেলিহান শিখা, কয়লার ধোঁয়া আর হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও কামারশালা।
সকাল গড়াতেই শিবচর পৌর বাজার, শেখপুর বাজার এবং চান্দেরচর রোডের কালি খোলা স্ট্যান্ড সংলগ্ন কামারপট্টিতে শুরু হয় ব্যস্ততা। চলে গভীর রাত পর্যন্ত। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে দা, বটি, ছুরি, চাপাতি ও চাকুসহ পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের প্রয়োজনীয় নানা সরঞ্জাম। একই সঙ্গে পুরোনো সরঞ্জামে নতুন করে ধার দিতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, জ্বলন্ত চুল্লিতে লোহা গরম করে দক্ষ হাতে একের পর এক তৈরি করছেন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। কারিগরদের ঘামঝরা পরিশ্রম আর আগুনের উত্তাপে যেন ফুটে উঠছে বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
স্থানীয় কামার রামকৃষ্ণ কর্মকার (বড় কর্মকার) জানান, ঈদুল আযহা এলেই তাদের কাজ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিরামহীনভাবে কাজ করতে হচ্ছে। নতুন সরঞ্জাম তৈরির পাশাপাশি পুরোনো দা-বটি ধার দেওয়ার কাজও চলছে সমানতালে।

আরেক কারিগর নিতাই কর্মকার বলেন, কাঁচামালের দাম বাড়ায় আগের মতো লাভ না থাকলেও মানুষের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, কোরবানির আগে দা-বটি ও ছুরি ঠিকঠাক করে রাখা জরুরি। ঈদের সময় অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে অনেকেই আগেভাগেই কামারশালায় এসে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করছেন।
শুধু পৌর এলাকা নয়, বন্দরখোলা, দত্তপাড়া, কুতুবপুর, বহেরাতলা, পাঁচ্চর, ভদ্রাসন, শেখপুর, মাদবরেরচর ও চান্দেরচরসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নেও বেড়েছে কামারদের কর্মব্যস্ততা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়লেও কোরবানির মৌসুমে দেশীয় কামারশিল্পের কদর এখনো অটুট। গ্রামীণ অর্থনীতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে এই পেশা আজও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
ঈদকে ঘিরে যখন প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সাধারণ মানুষ, ঠিক তখনই নিজেদের শ্রম আর দক্ষতায় উৎসবের প্রস্তুতিকে পূর্ণতা দিচ্ছেন শিবচরের এই পরিশ্রমী কামাররা। ঐতিহ্য আর জীবিকার এই গল্প যেন গ্রামবাংলার চিরচেনা এক প্রতিচ্ছবি।
মন্তব্য করুন